তেজস্ক্রিয় বর্জ্য
3.1.9 তেজস্ক্রিয় বর্জ্য (Radioactive Waste) : তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নির্গত হয় সাধারণত হাসপাতাল, পরীক্ষাগার, জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ, পারমাণবিক চুল্লি, পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র ও পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নির্গত হয়ে নিকটবর্তী জলাশয়, নদী, নালা, হ্রদ ইত্যাদির জলের সংস্পর্শে এসে জলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। এই দূষিত জল গ্রহণে মানুষ, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয়। মারাত্মক রোগগুলি হল—কিডনি ও চোখ নষ্ট হয় ; রক্তকোষ, চর্ম, বংশবৃদ্ধি কোষ প্রভৃতি ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়। এইরূপ দূষণ মনুষ্যসৃষ্ট। যেমন— (1) তেজস্ক্রিয় মৌলের সমস্থানিক (Radioactive isotope)-এর বিভিন্ন শিল্পকারখানা, গবেষণাগার ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার। (2) পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুতিতে তেজস্ক্রিয় মৌলের ব্যবহার। (3) পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয় মৌলের ব্যবহার। (4) আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন পদ্ধতিতে তেজস্ক্রিয় মৌলের ব্যবহার। (5) পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ। এই সকল ক্রিয়াকর্মগুলি জলাশয়ের নিকটবর্তী হলে জল বর্জ্যপদার্থের সংস্পর্শে এসে মারাত্মক ভাবে দূষিত হয়। Sr90 হাড়ের মধ্যে পুঞ্জীভূত হয়ে জীবিত কোষ, রক্তকোষকে নষ্ট করে ফলে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বংশপরম্পরায় মানুষ আক্রান্ত হয়। P32 জীবিত কোষের ক্রোমোজমে সঞিত হয়ে ক্যানসার রোগের সৃষ্টি করে। K30, Rb87 মাটিতে অবস্থান করে ভূমির ক্ষতি করে। ⚫ স্বাদনাশী পদার্থসমূহ (Taste Affecting Substances) : জলে মুক্ত ক্লোরিন, ফেনল, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ এবং কিছু জলজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী ও উদ্ভিদের উপস্থিতিতে জলের স্বাদ ও গন্ধ অসহনীয় হয়ে ওঠে। যেমন—অ্যালজি, ফান্গি, ব্যাকটেরিয়া, প্যাথজেন, বিয়োজিত জৈব পদার্থ ইত্যাদি জলে বিশ্রী স্বাদ ও গন্ধ সৃষ্টি করে। ⚫ ফেনা সৃষ্টিকারী অন্যান্য পদার্থ (Other Foaming Substances) : কৃত্রিম সাবান গুড়ো (detergent), সাবান, পেপার ও পাল্প্ ইন্ডাস্ট্রিতে অবিকৃত জৈব পদার্থ পরিষ্কার জলে ফেনা উৎপন্ন করে খুব তাড়াতাড়ি। দূষিত জল ফেনা সৃষ্টিতে বাধা দেয়।